বাংলাদেশ
ব্যাংক পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট ফি ২০২৬: মানি চেঞ্জারদের জন্য সর্বশেষ নির্দেশনা ও
যাত্রীদের জন্য বিস্তারিত গাইড
বাংলাদেশে বিদেশ ভ্রমণের
ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশে মানি চেঞ্জারদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায়ের অভিযোগ
পাওয়া গেছে। এই সমস্যা সমাধান এবং প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে বাংলাদেশ
ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ
করেছে।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা
বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করব—পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট কী, কেন এটি বাধ্যতামূলক, মানি চেঞ্জারদের জন্য নতুন
নির্দেশনা, বিদেশগামী যাত্রীদের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয়
সতর্কতা। এছাড়াও, ১০টি প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে পাঠকের সব
ধরনের সংশয় দূর করা হবে।
পাসপোর্ট
এন্ডোর্সমেন্ট কী এবং কেন এটি জরুরি?
পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট হলো
বিদেশ ভ্রমণের সময় যাত্রীর পাসপোর্ট এবং বিমান টিকিটে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের
তথ্য লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া। এটি মূলত সরকারের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার
নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশ
ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বাস্তবায়নের একটি কার্যকর ব্যবস্থা।
পাসপোর্ট
এন্ডোর্সমেন্টের মূল উদ্দেশ্যসমূহ:
1.
যাত্রীর
বিদেশে অর্থ বহনের সীমা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
2.
অবৈধ মুদ্রা
লেনদেন প্রতিরোধ।
3.
বৈদেশিক
মুদ্রা ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
4.
ব্যাংক এবং
সরকারের নীতি অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের হিসাব রাখা।
মানি
চেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির নিয়মাবলী
বাংলাদেশ ব্যাংক “Guidelines
for Foreign Exchange Transactions (GFET)–2018” অনুসারে
লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা প্রবাসে গমনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক
ভ্রমণ কোটার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে পারবেন। তবে এই লেনদেনের সময়
যাত্রীদের পাসপোর্ট এবং বিমান টিকিট এর এন্ডোর্সমেন্ট বাধ্যতামূলক।
বৈদেশিক
মুদ্রা বিক্রির নিয়ম:
- যাত্রীর বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার
মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা (নোট, কয়েন, ট্রাভেলার্স চেক) বিক্রি করা যাবে।
- প্রতিটি লেনদেনে পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটের
এন্ডোর্সমেন্ট থাকতে হবে।
- লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা
এন্ডোর্সমেন্ট ফি সর্বাধিক ৩০০ টাকার বেশি নিতে পারবেন না।
পাসপোর্ট
এন্ডোর্সমেন্ট ফি: নতুন সর্বোচ্চ সীমা
বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা দেশে সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারের জন্য বাধ্যতামূলক। নতুন
নির্দেশনা অনুযায়ী:
- পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০
টাকা।
- বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যাই হোক না কেন, ফি অপরিবর্তিত থাকবে।
- ৩০০ টাকার বেশি কোনো চার্জ আদায় করা
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অর্থাৎ, আপনি ২০০ ডলার কিনুন বা ৫,০০০ ডলার, এন্ডোর্সমেন্ট ফি সর্বাধিক ৩০০ টাকা হতে হবে।
মানি
চেঞ্জারদের জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক মানি
চেঞ্জারদের জন্য কয়েকটি স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে:
1.
দৃশ্যমান
স্থানে ফি প্রদর্শন: প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এন্ডোর্সমেন্ট ফি
স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে।
2.
রসিদ প্রদান
বাধ্যতামূলক: গ্রাহকের কাছ থেকে ফি আদায়ের প্রতিটি লেনদেনের জন্য লিখিত
রসিদ দেওয়া প্রয়োজন।
3.
সঠিক হিসাব
সংরক্ষণ: ভবিষ্যৎ অডিট বা তদারকির জন্য ব্যবসায়ীরা লেনদেনের সঠিক
হিসাব রাখতে বাধ্য।
4.
নির্দেশনা
অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা: ফি বেশি নেওয়া বা অন্য কোনো
অস্বচ্ছতা ধরা পড়লে লাইসেন্স বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্কুলারটি বাংলাদেশ
ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট–২ (FEPD-2) এর
পরিচালক মনোয়ার উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত।
যাত্রীদের
সুবিধা
এই নতুন নির্দেশনার ফলে
বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি পাবে:
- অতিরিক্ত চার্জ আদায় বন্ধ।
- পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া আরও
স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত হবে।
- বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়ন্ত্রণ ও
বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি।
- যাত্রীরা আর অপ্রয়োজনীয় হয়রানির মুখোমুখি
হবেন না।
যাত্রীদের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
1.
এন্ডোর্সমেন্ট
ফি ৩০০ টাকার বেশি দিলে রসিদসহ অভিযোগ করুন।
2.
লাইসেন্সপ্রাপ্ত
মানি চেঞ্জার থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করুন।
3.
পাসপোর্ট ও
টিকিটে এন্ডোর্সমেন্ট ঠিকভাবে হয়েছে কিনা যাচাই করুন।
4.
লেনদেনের
রসিদ সংরক্ষণ করুন, ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হবে।
5.
যদি কোনো
সমস্যা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইন বা জেলা অফিসে
জানাতে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs) – ১০টি
প্রশ্ন ১: পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট কি
বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ, বৈদেশিক
মুদ্রা ক্রয় এবং বিদেশ যাত্রার জন্য এন্ডোর্সমেন্ট বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ২: সর্বোচ্চ এন্ডোর্সমেন্ট ফি কত?
উত্তর: ৩০০ টাকা। এর বেশি নেওয়া যাবে
না।
প্রশ্ন ৩: ২০০ ডলার বা ৫,০০০ ডলার কিনলেও ফি একই থাকবে?
উত্তর: হ্যাঁ, ফি
বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণের উপর নির্ভর করবে না।
প্রশ্ন ৪: রসিদ না দিলে কি হবে?
উত্তর: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইনি
দায়িত্ব পালন করছে না এবং আইনগত ব্যবস্থা হতে পারে।
প্রশ্ন ৫: কি ভাবে এন্ডোর্সমেন্ট যাচাই করবেন?
উত্তর: পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটে
এন্ডোর্সমেন্ট লিপিবদ্ধ আছে কিনা দেখুন।
প্রশ্ন ৬: অডিটের জন্য কি করা জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি
লেনদেনের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৭: মানি চেঞ্জারের অনুমোদন কিভাবে
যাচাই করবেন?
উত্তর: লাইসেন্স প্রদর্শন ও বাংলাদেশ
ব্যাংকের লাইসেন্স তালিকা যাচাই করুন।
প্রশ্ন ৮: বিদেশ যাত্রীর জন্য কি সুবিধা?
উত্তর: অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ, প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত।
প্রশ্ন ৯: অভিযোগ করলে কোথায় জানানো যাবে?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলা অফিস বা
হেল্পলাইন।
প্রশ্ন ১০: কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?
উত্তর: বিদেশগামী যাত্রীদের স্বার্থ
রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে।
উপসংহার: পাসপোর্ট
এন্ডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় নির্ধারণ বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী
সিদ্ধান্ত। এর ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের অতিরিক্ত চার্জ বা হয়রানি বন্ধ হবে। মানি
চেঞ্জারদের জন্য নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করা হলে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত এবং
বিশ্বাসযোগ্য হবে।
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ হলো, বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের মাধ্যমে লেনদেন করা, ফি এবং রসিদ যাচাই করা, এবং প্রয়োজনে অভিযোগ
জানানো। এই নিয়মাবলী সঠিকভাবে পালন করলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে
শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট ফি ২০২৬, বাংলাদেশ ব্যাংক মানি চেঞ্জার, বিদেশ ভ্রমণ মুদ্রা, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট চার্জ, মানি চেঞ্জার ফি, বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা, বিদেশগামী যাত্রী সুবিধা, এন্ডোর্সমেন্ট রসিদ, পাসপোর্ট এন্ডোর্সমেন্ট নিয়ম, মানি চেঞ্জার আইন, বিদেশ ভ্রমণ ফি, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার, এন্ডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া
.png)
.png)