পারিবারিক
সনদ: ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন ও উত্তোলনের সহজ নিয়ম
পারিবারিক সনদ হলো এক প্রকার
সরকারি প্রত্যয়নপত্র, যা পরিবারভুক্ত সদস্যদের সম্পর্ক, পরিচয় ও ঠিকানা প্রমাণের কাজে ব্যবহৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি,
চাকরি, সরকারি–বেসরকারি ভাতা, পাসপোর্ট প্রক্রিয়া, জমি সংক্রান্ত লেনদেন বা
অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগে
লোকেরা এই সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় বারবার যেতেন, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝক্কির বিষয় ছিল। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির
কারণে এখন অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই পারিবারিক সনদ উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা
বিস্তারিতভাবে দেখাবো কীভাবে e-প্রত্যয়ন সিস্টেম ব্যবহার করে
পারিবারিক সনদ আবেদন করা যায়, প্রয়োজনীয় তথ্য কী কী, এবং আবেদন প্রক্রিয়া শেষে কীভাবে সনদ সংগ্রহ করা যায়।
পারিবারিক
সনদ কী এবং এর প্রয়োজনীয়তা
পারিবারিক সনদ মূলত স্থানীয়
সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি প্রত্যয়নপত্র। এতে একজন ব্যক্তির পরিবারের সকল সদস্যের
নাম, তাদের মধ্যে সম্পর্ক এবং পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ থাকে।
এটি পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক প্রমাণের জন্য সরকারিভাবে স্বীকৃত দলিল হিসেবে গণ্য
হয়।
বর্তমান সময়ে পারিবারিক সনদ
প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে অপরিহার্য। এটি শুধুমাত্র সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কাজেও গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইনে
পারিবারিক সনদ করার সুবিধা
অনলাইনের মাধ্যমে পারিবারিক
সনদ উত্তোলনের ফলে বেশ কয়েকটি সুবিধা পাওয়া যায়, যেমন—
- ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় বারবার যাতায়াতের
ঝক্কি দূর হয়।
- সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হয়।
- আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ট্র্যাকযোগ্য হয়।
- ঘরে বসেই আবেদন স্ট্যাটাস জানা সম্ভব হয়।
এছাড়া অনলাইন প্রক্রিয়ায় তথ্য
যাচাই দ্রুত হওয়ায়, অনুমোদন প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় অনেক দ্রুত
সম্পন্ন হয়।
ধাপে ধাপে
অনলাইনে পারিবারিক সনদ আবেদন
নিচে সহজ ও আপডেট পদ্ধতিতে
পারিবারিক সনদ আবেদন করার ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো:
ধাপ ১:
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে
ব্রাউজার খুলে সার্চ করুন: eprottoyon.com। হোমপেজে
প্রবেশ করলে নতুন বা পূর্বের ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন অপশন দেখা যাবে।
ধাপ ২: নতুন
ব্যবহারকারীদের রেজিস্ট্রেশন: যদি আপনি আগেই ওয়েবসাইটে
অ্যাকাউন্ট না খুলে থাকেন, তাহলে—
- “রেজিস্টার” অপশনে ক্লিক করুন।
- নাম, জাতীয়
পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিন।
- তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন
সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৩: লগইন
করা: রেজিস্ট্রেশন শেষে—
- “লগইন” অপশনে যান।
- ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রোফাইলে
প্রবেশ করুন।
- লগইন করলে আপনার ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ড
খুলবে।
ধাপ ৪:
সনদের জন্য আবেদন নির্বাচন: ড্যাশবোর্ড থেকে—
- মেইন মেনুতে গিয়ে “সনদপত্রের জন্য আবেদন”
নির্বাচন করুন।
- প্রদত্ত তালিকা থেকে “পারিবারিক সনদ” বাছাই
করুন।
ধাপ ৫:
আবেদন ফর্ম পূরণ: ফর্মে সাধারণত যা তথ্য দিতে হয়—
- আবেদনকারীর নাম
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
- পিতা/স্বামীর নাম
- গ্রাম/মহল্লা
- ওয়ার্ড নম্বর
- উপজেলা ও জেলা
- স্থায়ী ঠিকানা
- তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে, যাতে এনআইডি তথ্যের সঙ্গে কোনো মিলভ্রান্তি না হয়।
ধাপ ৬:
পরিবারের সদস্যদের তথ্য যুক্ত করা: ফর্মের নিচে
পরিবারের সদস্যদের তথ্য যোগের অপশন থাকবে। এখানে—
- পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নাম
- আবেদনকারীর সঙ্গে সম্পর্ক
- ভোটার আইডি বা জন্মসনদের তথ্য (যদি থাকে)
- যোগ করার পর “যোগ করুন” বাটনে ক্লিক করুন
ধাপ ৭: ছবি
ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
- অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র (যদি থাকে)
- নির্ধারিত ফরম্যাট ও সাইজ অনুযায়ী আপলোড
করুন।
ধাপ ৮: তথ্য
যাচাই ও সম্মতিতে টিক দেওয়া: সব তথ্য পূরণের পর—
- পুরো ফর্ম যাচাই করুন
- সম্মতিসূচক বক্সে টিক দিন
- এই ধাপটি না করলে আবেদন সাবমিট হবে না।
ধাপ ৯:
আবেদন সাবমিট ও সংরক্ষণ: সবকিছু ঠিক থাকলে—
- “সাবমিট” বা “সংরক্ষণ” বাটনে ক্লিক
করুন।
- প্রদত্ত আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ১০:
যাচাই ও সনদ গ্রহণ
- সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌরসভা আবেদন যাচাই
করবে।
- প্রয়োজন হলে স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত হতে
পারে।
- অনুমোদন শেষে সনদ অনলাইনে ডাউনলোড বা অফিস
থেকে হার্ড কপি সংগ্রহ করা যাবে।
পারিবারিক
সনদ প্রাপ্তির সময়কাল
সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার ৩–৭
কার্যদিবসের মধ্যে পারিবারিক সনদ প্রস্তুত হয়। তবে এলাকা ও যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর
সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
সতর্কতা ও
পরামর্শ
- তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী দিন।
- ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
- দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ করবেন
না।
উপসংহার: ডিজিটাল
সেবার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই পারিবারিক সনদ উত্তোলন করা সম্ভব। সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও ধাপগুলো অনুসরণ করলে সময়, খরচ
ও ভোগান্তি কমানো যায়। এটি নাগরিক সুবিধা ও সরকারি সেবার স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে একটি
গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
পারিবারিক সনদ অনলাইনে আবেদন, পারিবারিক সনদ ডাউনলোড, e-প্রত্যয়ন পারিবারিক সনদ, ঘরে বসে পারিবারিক সনদ, পারিবারিক সনদ তৈরি, পরিবারভুক্ত সদস্যের তথ্য, পারিবারিক সনদ আবেদন ধাপ, বাংলাদেশ পারিবারিক সনদ, পারিবারিক সনদ আবেদন ফর্ম, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী সনদ, পারিবারিক সনদ যাচাই, অনলাইনে সরকারি সনদ, পারিবারিক সনদ আবেদন সময়, পারিবারিক সনদ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনলাইন সনদ প্রক্রিয়া, পারিবারিক সনদ সুবিধা, পারিবারিক সনদ স্বয়ংক্রিয় আবেদন, ডিজিটাল পারিবারিক সনদ, পরিবার সম্পর্ক প্রমাণ, বাংলাদেশ সরকারী সনদ অনলাইন।
.png)
