বাংলাদেশের
যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া পরিচয়হীন শিশুদের জন্মনিবন্ধনের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কিছু
শিশু সমাজে ‘অদৃশ্য’ ছিল। বিশেষ করে দৌলতদিয়া, বানিশান্তা ও
অন্যান্য যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা। মা–যৌনকর্মী এবং বাবার পরিচয় অজানা থাকায়
তাদের জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা আইনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল,
যা তাদের জীবনকে সীমাবদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভোটাধিকার কিংবা পাসপোর্ট—সব মৌলিক
অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত থাকত।
এতোদিন সরকারি কর্মকর্তারা
শিশুর বাবা–মায়ের প্রমাণপত্র ছাড়া জন্মনিবন্ধন দিতে অস্বীকার করতেন। ফলে
পরিচয়হীন শিশুরা দশকের পর দশক ধরে পরিচয়হীন থাকত। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের
যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রথমবারের
মতো দৌলতদিয়া যৌনপল্লির প্রায় ৪০০ শিশুকে জন্মনিবন্ধনের সনদ প্রদান করা হয়েছে।
এটি শুধুমাত্র একটি আইনি ব্যবস্থা নয়, বরং শিশুদের জন্য
সামাজিক স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার প্রতীক।
এই প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে
নানামুখী প্রচেষ্টা। লন্ডনভিত্তিক ‘ফ্রিডম ফান্ড’-এর বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ম্যানেজার
খালেদা আক্তার বলেন, আগে এই শিশুরা নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত
থাকত। সমাজ তাদের আলাদা একটি জগতের বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করত। তবে নতুন নিয়ম
শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করছে, নিরাপদ করছে এবং
ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগিয়েছে।
ফ্রিডম ফান্ড এবং স্থানীয়
বিভিন্ন সংগঠন যৌনপল্লিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সরকারের
কাছে জমা দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে আইনের প্রাসঙ্গিক ধারার গুরুত্ব
বোঝাতে লবিং চালানো হয়েছে। ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, বাবা–মায়ের তথ্য ছাড়াই শিশুর জন্মনিবন্ধন করা সম্ভব। এই ধারাটি এতদিন
অব্যবহৃত থাকলেও সম্প্রতি প্রচারণার মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়েছে।
এখন যৌনপল্লির মায়েরা
স্বতঃস্ফূর্তভাবে একে অপরকে উৎসাহিত করছেন তাদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করাতে।
তারা বুঝতে পেরেছেন, জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুদের স্কুলে ভর্তি
হওয়া, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং আইনি স্বীকৃতি পাওয়া
কঠিন হয়ে যায়।
জন্মনিবন্ধনের অভাবে শিশুদের
কেবল সুযোগই সীমিত থাকত না, তাদের পাচারের ঝুঁকিও বেড়ে যেত। খালেদা
আক্তার বলেন, জন্মনিবন্ধন ছাড়া কিশোরীর বয়স প্রমাণ করা কঠিন
হয়, যা অপরাধমূলক কাজে জড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। গত দুই দশক
ধরে তিনি অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌনকর্মে বাধ্য করা থেকে উদ্ধার করেছেন।
শিশুদের জীবনযাত্রায়
জন্মনিবন্ধনের প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। খালেদা আক্তার একটি কিশোরীর অভিজ্ঞতা
বর্ণনা করেছেন। মেয়েটি জানিয়েছে, জন্মনিবন্ধনের ফলে সে এখন স্কুলে
উপবৃত্তি পেতে পারবে। মেয়েটি আনন্দিত, কারণ সরকার অবশেষে তার
পরিচয় স্বীকৃতি দিয়েছে।
শিশুদের জন্মনিবন্ধন
শুধুমাত্র নথি নয়, এটি তাদের সমাজে স্বীকৃতি, শিক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতীক। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের শিশু অধিকার সুরক্ষায়
এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে যৌনপল্লি শিশু জন্মনিবন্ধন, দৌলতদিয়া পরিচয়হীন শিশু, যৌনপল্লি শিশু অধিকার, ফ্রিডম ফান্ড বাংলাদেশ, জন্মসনদ শিশুর জন্য, পরিচয়হীন শিশুর জন্য নাগরিক অধিকার, বাংলাদেশ শিশু স্বীকৃতি, যৌনকর্মী সন্তানের জন্মনিবন্ধন, বাংলাদেশের অনিবন্ধিত শিশু, শিশুর মৌলিক অধিকার বাংলাদেশ, বানিশান্তা যৌনপল্লি শিশু, জন্মনিবন্ধন আইন বাংলাদেশ, পরিচয়হীন শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, বাংলাদেশ শিশু সুরক্ষা উদ্যোগ, যৌনপল্লি শিশু অধিকার মাইলফলক, বাংলাদেশ শিশু আইন, শিশুর নাগরিক সনদ বাংলাদেশ, পরিচয়হীন শিশুর সমস্যা সমাধান, যৌনপল্লি শিশুদের সামাজিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশ শিশু জন্মনিবন্ধন সংস্থা
.png)
.png)