মেয়েদের
অর্গাজম নিয়ে ছেলেদের যে ৪টি ভুল ধারণা ভাঙা জরুরি, ডাক্তাররা যা বলেন
বিয়ের পর অনেক ছেলেই ভাবেন
শারীরিক সম্পর্ক মানে শুধু নিজের তৃপ্তি। কিন্তু একটা সুস্থ দাম্পত্যের জন্য
দুজনের মানসিক ও শারীরিক তৃপ্তি জরুরি। সমস্যা হলো, পর্ন,
বন্ধুদের আড্ডা আর লজ্জার কারণে মেয়েদের অর্গাজম নিয়ে ছেলেদের
মাথায় কিছু ভুল ধারণা ঢুকে যায়। এই ভুলগুলোই সংসারে দূরত্ব তৈরি করে।
গাইনোকোলজিস্ট ও
সাইকোলজিস্টরা কী বলেন? চলুন ৪টি কমন মিথ ভাঙি।
ভুল ধারণা
১: পেনিট্রেশন হলেই মেয়েদের অর্গাজম হয়ে যায়
ছেলেরা যা
ভাবে: সিনেমা বা
পর্নে দেখায়, ছেলে অ্যাকটিভ থাকলেই মেয়ে চোখ বন্ধ করে
"ম্যাজিক" ফিল করে। তাই মূল ফোকাস থাকে শুধু ইন্টারকোর্সে।
ডাক্তাররা
যা বলেন: ঢাকা
মেডিকেলের গাইনি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৮ থেকে ২৫%
মেয়ের পেনিট্রেশনে সরাসরি অর্গাজম হয়। ৭০% এর বেশি মেয়ের জন্য ক্লাইটোরাল
স্টিমুলেশন জরুরি। ক্লাইটোরিস হলো মেয়েদের শরীরের সবচেয়ে সেনসিটিভ অংশ, যার একমাত্র কাজই হলো আনন্দ দেওয়া।
সমাধান: ফোরপ্লেকে সময় দিন। স্ত্রীর সাথে
কথা বলুন, তার কী ভালো লাগে জিজ্ঞেস করুন। লজ্জার কিছু নেই। দুজনের শরীর
দুজনকে বুঝতে সময় লাগে।
ভুল ধারণা
২: অর্গাজম না হলে মেয়ে আপনাকে ভালোবাসে না বা আপনি ‘দুর্বল’
ছেলেরা যা
ভাবে: "ওর তো কিছুই হলো না। তার মানে আমি পারি না।" এই ভেবে অনেকে হতাশ হয়,
রাগ করে, অথবা স্ত্রীকে দোষ দেয়।
ডাক্তাররা
যা বলেন: মেয়েদের
অর্গাজম ছেলেদের মতো মেকানিক্যাল না। এটা মুড, স্ট্রেস, শরীরের কন্ডিশন, বাচ্চার টেনশন, এমনকি ঘরের পরিবেশের ওপরও নির্ভর করে। সারাদিন অফিস-সংসার করে ক্লান্ত
থাকলে শরীর রিল্যাক্স মুডে যায় না। আবার অনেক মেয়ে নিজেই জানে না তার কীভাবে
অর্গাজম হয়। কারণ আমাদের দেশে মেয়েদের নিজের শরীর চিনতে শেখানো হয় না।
সমাধান: পারফরম্যান্সের চাপ বাদ দিন। লক্ষ্য
"অর্গাজম" না, লক্ষ্য দুজনের ঘনিষ্ঠতা আর কমফোর্ট।
বিশ্বাস আর ধৈর্য রাখলে সময়ের সাথে সব ঠিক হয়।
ভুল ধারণা
৩: সব মেয়ের একইভাবে অর্গাজম হয়, আর সেটা জোরে শব্দ
করে বোঝা যায়
ছেলেরা যা
ভাবে: পর্নে দেখে
ভাবে মেয়েরা চিৎকার করবে, শরীর কাঁপবে। না হলে ভাবে "ওর ফিলিংস
নেই"।
ডাক্তাররা
যা বলেন: বাস্তবে
প্রতিটা মেয়ের অর্গাজমের ধরন আলাদা। কারও নিঃশব্দে হয়, কারও শরীর হালকা কেঁপে ওঠে, কারও শুধু গভীর শ্বাস
পড়ে। প্রায় ১০-১৫% মেয়ে জীবনে কখনও অর্গাজম ফিল করেন না, যাকে
ডাক্তারি ভাষায় অ্যানঅর্গাজমিয়া বলে। এটা অসুখ না, কাউন্সেলিং
ও প্র্যাকটিসে ঠিক হতে পারে।
সমাধান: স্ত্রীকে জাজ করবেন না। "তোমার
হয়েছে?" বারবার জিজ্ঞেস করলে সে প্রেশার ফিল করে নাটক করতে
পারে। বরং জিজ্ঞেস করুন, "তোমার কেমন লাগল? কী করলে আরও ভালো লাগবে?"
ভুল ধারণা
৪: অর্গাজম মানেই বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে
ছেলেরা যা
ভাবে: স্ত্রীর
অর্গাজম হলে স্পার্ম ভেতরে টেনে নেয়, তাই তাড়াতাড়ি
কনসিভ করবে।
ডাক্তাররা
যা বলেন: বাচ্চা
হওয়ার সাথে মেয়েদের অর্গাজমের সরাসরি সম্পর্ক নেই। প্রেগন্যান্সি হয় স্পার্ম
ডিম্বাণু নিষিক্ত করলে। অর্গাজম হলে জরায়ুতে কিছু সংকোচন হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা স্পার্মকে টেনে নেয় না। অনেক মেয়ে অর্গাজম ছাড়াই মা
হয়েছেন।
সমাধান: বাচ্চা নেওয়ার জন্য টাইমিং, ডিম্বাণু স্ফুটন আর স্পার্মের কোয়ালিটি জরুরি। অর্গাজমকে "বাচ্চা
হওয়ার মেশিন" বানাবেন না। এটা দুজনের আনন্দের বিষয়।
শেষ কথা:
ইগো না, ইমপ্যাথি দরকার
গাইনোকোলজিস্ট
ডা. ফারহানা দেওয়ান বলেন, "বাংলাদেশের ৮০% দম্পতি কখনও যৌন জীবন
নিয়ে খোলাখুলি কথা বলে না। ফলে ছেলেরা গুগল আর পর্ন থেকে শেখে, যা ৯০% ভুল।"
স্ত্রীর অর্গাজম নিয়ে আপনার
ইগো কাজ করলে লাভ নেই। দিন শেষে সে আপনার পার্টনার। তার ভালো লাগা, মন্দ লাগা জানা আপনার দায়িত্ব। লজ্জা ভেঙে কথা বলুন। দরকার হলে দুজন
একসাথে একজন সাইকোলজিস্ট বা সেক্স কাউন্সেলরের কাছে যান।
মনে রাখবেন, ভালো স্বামী হওয়ার প্রথম শর্ত হলো ভালো শ্রোতা হওয়া। বিছানায়ও।
মেয়েদের অর্গাজম কেন হয় না, স্ত্রীর অর্গাজম কীভাবে হবে, মেয়েদের অর্গাজম ভুল ধারণা, ক্লাইটোরাল স্টিমুলেশন কী, পেনিট্রেশনে মেয়েদের অর্গাজম হয় না কেন, ফোরপ্লে কেন জরুরি, স্ত্রী যৌনতায় সন্তুষ্ট না, অর্গাজম না হলে করণীয়, মেয়েদের অর্গাজমের লক্ষণ, অ্যানঅর্গাজমিয়া চিকিৎসা, গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ যৌন জীবন, ডাক্তাররা যা বলেন অর্গাজম নিয়ে, স্বামী স্ত্রী যৌন সমস্যা, দাম্পত্য জীবনে যৌন অতৃপ্তি, মেয়েদের যৌন ইচ্ছা কম কেন, স্ত্রীকে কীভাবে তৃপ্তি দেব, অর্গাজম ও বাচ্চা হওয়া, পর্ন বনাম বাস্তব সেক্স, সেক্স কাউন্সেলিং বাংলাদেশ, যৌন জীবন সুখী করার উপায়, শারীরিক সম্পর্কে ভুল ধারণা, মেয়েদের শরীর সম্পর্কে ছেলেদের ভুল, সুস্থ যৌন জীবন টিপস, স্ত্রীর ভালো লাগা বুঝব কীভাবে, বিয়ের পর যৌন সমস্যা সমাধান।
.png)
