জন্মের পরই ডিজিটাল
আইডি ও ওয়ালেট, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান
আইডি’
বাংলাদেশের ডিজিটাল
রূপান্তরকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে সরকার একটি যুগান্তকারী নীতি
প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে, যার নাম ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’। এই
উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিক জন্মের পর থেকেই একটি ইউনিক ডিজিটাল
পরিচয়ের আওতায় আসবে, যা ভবিষ্যতে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আর্থিক সকল কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় একজন
নাগরিকের জন্য একটি একক ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে, যা শিক্ষা,
স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, সরকারি
সেবা গ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রীয় পরিচয় হিসেবে কাজ করবে। এই আইডির
সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে একটি ডিজিটাল ওয়ালেট, যার মাধ্যমে সহজেই
আর্থিক লেনদেন, সরকারি ভাতা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল
পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে। ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল
সার্ভিস (এমএফএস)-এর ব্যবহার আরও সহজ ও একীভূত হবে।
রাজধানীতে আয়োজিত ‘নতুন
টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই পরিকল্পনার
বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি জানান,
দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিককে একটি সমন্বিত ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থার
আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নাগরিক সেবা আরও
দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরাপদভাবে প্রদান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একাধিক পরিচয় বা আলাদা আলাদা
প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে। একই ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে সব
ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা
প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সহজ করবে।
সেমিনারে আরও উল্লেখ করা হয়
যে, ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল
ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। এতে নাগরিকরা তাদের আর্থিক লেনদেন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক
সুবিধা, যেমন ভাতা, অনুদান বা সরকারি
সহায়তা সরাসরি ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে আরও
রয়েছে দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং উচ্চগতির
ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির
বিস্তার ঘটানো এবং মোবাইল সেবার উপর আরোপিত কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার বিষয়েও
উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান মোবাইল সেবার মান এবং
কর কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে বলা হয়, একজন গ্রাহক ১০০
টাকা রিচার্জ করলেও পুরো টাকার সুবিধা পান না। সরকার এই ব্যবধান কমিয়ে গ্রাহকদের
আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি
বাড়াতে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন সরবরাহের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ডিজিটাল সেবার সুবিধা নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল
অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে। নাগরিক সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ
এবং স্বচ্ছ হবে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক লেনদেনেও নতুন গতি আসবে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ ডেটা নিরাপত্তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ
দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ‘ওয়ান ডিজিটাল আইডি ও ওয়ালেট’ নীতি বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের
প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ ডিজিটাল আইডি, ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি বাংলাদেশ, ডিজিটাল ওয়ালেট
বাংলাদেশ, ডিজিটাল আইডি সিস্টেম বাংলাদেশ, সরকারি ডিজিটাল সেবা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ডিজিটাল
ট্রান্সফরমেশন, ফাইভ জি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, 100 Mbps
ইন্টারনেট বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন,
ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ ২০২৬, মোবাইল
ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বাংলাদেশ এমএফএস, ব্যাংকিং
ডিজিটালাইজেশন বাংলাদেশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশ এআই
নীতি, টেলিযোগাযোগ নীতিমালা বাংলাদেশ, রেহান
আসিফ আসাদ বক্তব্য, নতুন টেলিকম নীতি বাংলাদেশ, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম বাংলাদেশ, ক্যাশলেস সোসাইটি
বাংলাদেশ, সরকারি ভাতা ডিজিটাল ওয়ালেট, ইউনিক ডিজিটাল আইডি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ডিজিটাল
ইকোনমি, ডিজিটাল সেবা উন্নয়ন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আইটি সেক্টর উন্নয়ন, টেলিকম খাত সংস্কার
বাংলাদেশ
.png)
