স্মার্টফোন
কেনার সময় দোকানদার যেসব কথা বলে না—জেনে নিন আসল সত্য
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন শুধু
যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি আমাদের অফিস, ক্যামেরা, ব্যাংক, বিনোদন কেন্দ্র এবং ব্যক্তিগত সহকারী। ফলে
নতুন ফোন কেনা এখন অনেক বড় সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্মার্টফোন
কেনার সময় দোকানদার সাধারণত এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখে বা আংশিক সত্য
বলে, যা জানলে আপনি হয়তো সেই ফোনটি কিনতেন না।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা
বিস্তারিতভাবে জানব—স্মার্টফোন কেনার সময় দোকানদাররা সাধারণত কোন বিষয়গুলো বলেন না, কেন বলেন না, এবং একজন সচেতন ক্রেতা হিসেবে আপনাকে
কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
১. ডিসপ্লের
“টাইপ” আর “কোয়ালিটি” এক জিনিস নয়
দোকানদার প্রায়ই বলে থাকেন— “ভাই, AMOLED ডিসপ্লে, একদম
ক্লিয়ার!”
কিন্তু তারা সাধারণত বলেন না—
- AMOLED হলেও সেটা low-grade বা old generation হতে পারে
- রেজোলিউশন কম হতে পারে (HD+ বনাম Full HD+)
- ব্রাইটনেস (nits) কম
হওয়ায় বাইরে রোদে ভালো দেখা যাবে না
একই AMOLED ডিসপ্লে হলেও দাম ও মানের পার্থক্য অনেক। তাই শুধু ডিসপ্লের নাম শুনে
সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল।
আপনার
করণীয়: রেজোলিউশন, ব্রাইটনেস (nits)
এবং রিফ্রেশ রেট নিজে দেখে নিন।
২.
ক্যামেরার মেগাপিক্সেল সংখ্যা আসল মানদণ্ড নয়
“৬৪ মেগাপিক্সেলের
ক্যামেরা ভাই, একদম DSLR ফিল!”
এই কথাটি প্রায় সবাই শুনেছেন।
কিন্তু দোকানদার বলেন না—
- সেন্সরের সাইজ কত
- ক্যামেরা সেন্সর কোন কোম্পানির (Sony,
Samsung নাকি Generic)
- ইমেজ প্রসেসিং কতটা ভালো
বাস্তবে ৪৮MP ভালো সেন্সর অনেক সময় ৬৪MP খারাপ সেন্সরের চেয়ে ভালো
ছবি দেয়।
আপনার
করণীয়: শুধু মেগাপিক্সেল নয়, ক্যামেরা সেন্সর ও
রিভিউ দেখুন।
৩. “৮GB RAM” শুনে বিভ্রান্ত হবেন না
অনেক ফোনে লেখা থাকে—৮GB RAM কিন্তু দোকানদার বলেন না—
- এটি কি আসল RAM, নাকি
Virtual RAM যুক্ত
- স্টোরেজ কতটা ধীর (eMMC নাকি UFS)
- মাল্টিটাস্কিংয়ে ফোন গরম হয় কিনা
ধীর স্টোরেজ হলে বেশি RAM থাকার পরও ফোন স্লো লাগতে পারে।
আপনার
করণীয়: RAM-এর পাশাপাশি স্টোরেজ টাইপ (UFS
2.2 / 3.1) যাচাই করুন।
৪.
প্রসেসরের নাম বলা হয়, কিন্তু বাস্তব পারফরম্যান্স নয়
“এই ফোনে Snapdragon
আছে”—এটুকুই বলা হয়।
কিন্তু বলা হয় না—
- এটি entry-level, mid-range না flagship প্রসেসর
- গেমিং বা ভারী কাজে গরম হয় কিনা
- দীর্ঘমেয়াদে পারফরম্যান্স কেমন থাকবে
একই Snapdragon হলেও 4 সিরিজ আর 7 সিরিজের
পার্থক্য আকাশ-পাতাল।
আপনার
করণীয়: প্রসেসরের exact model দেখে
অনলাইন রিভিউ পড়ুন।
৫.
ব্যাটারির mAh বেশি মানেই ভালো নয়
“৫০০০mAh ব্যাটারি, দুই দিন চলবে”—এই কথা প্রায় নিশ্চিত।
কিন্তু দোকানদার বলেন না—
- প্রসেসর কতটা পাওয়ার-এফিশিয়েন্ট
- ডিসপ্লে কতটা ব্যাটারি খরচ করে
- সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন কেমন
অনেক সময় ৪৫০০mAh ভালো ফোন, ৫০০০mAh খারাপ ফোনের
চেয়ে বেশি ব্যাকআপ দেয়।
আপনার
করণীয়: বাস্তব ব্যবহার রিভিউ দেখুন।
৬. ফাস্ট
চার্জিংয়ের “ওয়াট” নিয়ে অর্ধেক সত্য বলা হয়
“৬৭W ফাস্ট চার্জিং ভাই!”
কিন্তু বলা হয় না—
- চার্জারটি বক্সে আছে কিনা
- পূর্ণ স্পিড পেতে আলাদা চার্জার লাগবে কিনা
- বেশি ওয়াট দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির ক্ষতি করতে
পারে
আপনার
করণীয়: বক্স কনটেন্ট ও চার্জিং টাইম জেনে নিন।
৭.
সফটওয়্যার আপডেট কতদিন পাবেন—এটা বলা হয় না
দোকানদার ফোন বিক্রি করেন, ভবিষ্যৎ আপডেট নয়।
তারা বলেন না—
- কয় বছর Android আপডেট
পাবেন
- সিকিউরিটি আপডেট নিয়মিত আসবে কিনা
- কোম্পানির আপডেট রেকর্ড কেমন
ফলে ১–২ বছরের মধ্যেই ফোন
পুরনো হয়ে যেতে পারে।
আপনার
করণীয়: ব্র্যান্ডের আপডেট পলিসি জেনে নিন।
৮. “নতুন
ফোন” হলেও সেটি আগে খোলা হতে পারে
অনেক ক্ষেত্রে—
- ডেমো ফোন আবার বিক্রি করা হয়
- বক্স খোলা থাকলেও “নতুন” বলা হয়
- চার্জ সাইকেল আগেই ব্যবহার করা থাকে
আপনার
করণীয়: সিল, IMEI ও প্রথম বুট নিজে চেক করুন।
৯. অফিসিয়াল
ও আনঅফিসিয়াল ফোনের ঝুঁকি
দোকানদার দাম কম দেখিয়ে বলেন—
“সবই একই, সমস্যা নেই।”
কিন্তু বলেন না—
- আনঅফিসিয়ালে ওয়ারেন্টি নেই
- ভবিষ্যতে পার্টস পাওয়া কঠিন
- সফটওয়্যার আপডেট নাও আসতে পারে
আপনার
করণীয়: অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করুন।
১০. আপনার
প্রয়োজন নয়, তাদের লাভটাই মুখ্য
সবচেয়ে বড় সত্য হলো— দোকানদার
সাধারণত সেই ফোনই সাজেস্ট করেন, যেটিতে তাদের লাভ বেশি।
আপনি গেম খেলেন না, তবুও গেমিং ফোন সাজেস্ট হতে পারে। আপনি শুধু কল ও ফেসবুক করেন, তবুও ভারী ফোন দেখানো হয়।
আপনার
করণীয়: নিজের ব্যবহার আগে ঠিক করুন।
উপসংহার
স্মার্টফোন কেনা মানেই শুধু
সুন্দর ডিজাইন বা বড় নাম নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। দোকানদার সব সময়
মিথ্যা বলেন—এটা নয়, কিন্তু তারা সব সত্য বলেনও না।
সচেতন ক্রেতা হিসেবে আপনার
দায়িত্ব—
- নিজে রিসার্চ করা
- রিভিউ দেখা
- প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া
মনে রাখবেন, জ্ঞানই সবচেয়ে বড় ডিসকাউন্ট। ফোন
কেনার আগে জানুন, বুঝুন, তারপর
কিনুন—তাহলেই ঠকবেন না।
স্মার্টফোন কেনার আগে যা জানা দরকার, স্মার্টফোন কেনার সময় দোকানদার যা বলে না, মোবাইল ফোন কেনার টিপস, নতুন স্মার্টফোন কেনার গাইড, মোবাইল কেনার সময় সতর্কতা, স্মার্টফোন কেনার ভুল, মোবাইল ফোন কেনার সময় কী দেখবেন, স্মার্টফোন ডিসপ্লে যাচাই, মোবাইল ক্যামেরা মেগাপিক্সেল সত্য, র্যাম ও স্টোরেজ পার্থক্য, মোবাইল প্রসেসর নির্বাচন, স্মার্টফোন ব্যাটারি ব্যাকআপ, ফাস্ট চার্জিং সত্য, স্মার্টফোন সফটওয়্যার আপডেট, অফিসিয়াল আনঅফিসিয়াল ফোন পার্থক্য, মোবাইল ফোন ওয়ারেন্টি তথ্য, নতুন ফোন চেক করার নিয়ম, মোবাইল কেনার আগে IMEI চেক, স্মার্টফোন রিভিউ বাংলা, বাজেট স্মার্টফোন কেনার গাইড, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কেনা, স্মার্টফোন কেনার সেরা পরামর্শ, ফোন কেনার আগে কী জানতে হবে, স্মার্টফোন ক্রয় নির্দেশিকা, মোবাইল শপ প্রতারণা, ফোন কেনার সময় কী ভুল হয়, স্মার্টফোন সচেতন ক্রেতা
.png)
