৩০ বছর পার
হলে যৌন স্বাস্থ্যের ৮টি জরুরি টেস্ট
৩০ বছর বয়সটা একটা মাইলফলক।
ক্যারিয়ার, সংসার, দায়িত্ব সব
গুছিয়ে নেওয়ার সময়। কিন্তু এই বয়সের পর থেকেই শরীরে ধীরে ধীরে কিছু হরমোনাল ও
মেটাবলিক পরিবর্তন শুরু হয় যা সরাসরি আপনার দাম্পত্য জীবন ও যৌন স্বাস্থ্যে
প্রভাব ফেলে। সমস্যা হলো, আমরা হার্ট, ডায়াবেটিস
নিয়ে সচেতন হলেও "যৌন স্বাস্থ্য" নিয়ে চেকআপ করাতে লজ্জা পাই। অথচ
শুরুতেই ধরা পড়লে বেশিরভাগ সমস্যা সহজেই সমাধান করা যায়।
৩০ পেরোনোর পর পুরুষ ও নারী
উভয়েরই কিছু রুটিন টেস্ট করানো উচিত। এগুলো শুধু রোগ ধরার জন্য না, বরং ভবিষ্যতের সুস্থ দাম্পত্য জীবনের ইনভেস্টমেন্ট। চলুন দেখি বিশেষজ্ঞরা
যে ৮টি টেস্টের কথা বলেন সেগুলো কী কী, কেন জরুরি, আর কখন করাবেন।
১.
টেস্টোস্টেরন প্রোফাইল টেস্ট: পুরুষদের জন্য মাস্ট
৩০ এর পর থেকে পুরুষদের শরীরে
প্রতি বছর প্রায় ১% হারে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমতে থাকে। এটাই পুরুষের মূল সেক্স
হরমোন। এটা কমে গেলে ইচ্ছা কমে যাওয়া, ক্লান্তি, মুড সুইং, মনোযোগের অভাব, এমনকি
ইরেক্টাইল ডিসফাংশন দেখা দিতে পারে।
কী টেস্ট
করবেন: Total
Testosterone ও Free Testosterone। সকালে
খালি পেটে করলে রেজাল্ট সবচেয়ে অ্যাকুরেট হয়।
কখন করাবেন: ৩০ এর পর যদি অকারণে ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া বা ইচ্ছা কমে যায় তাহলে। না হলে ৩৫ এর পর রুটিন চেকআপে
রাখুন।
২. থাইরয়েড
প্রোফাইল: নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য
থাইরয়েড গ্ল্যান্ড আমাদের
শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েড বা থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে
মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড অনিয়ম, যোনিপথ শুষ্কতা,
ইচ্ছা কমে যাওয়া হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে ইরেকশন সমস্যা ও লো লিবিডো
দেখা দেয়। বাংলাদেশে বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে এটা খুব কমন।
কী টেস্ট
করবেন: TSH, FT3,
FT4।
কখন করাবেন: ৩০ এর পর প্রতি ২-৩ বছর পরপর, বিশেষ করে ওজন হঠাৎ বাড়লে-কমলে বা অতিরিক্ত চুল পড়লে।
৩.
ডায়াবেটিস ও HbA1c টেস্ট: নিরব ঘাতক
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
রক্তনালী ও নার্ভের ক্ষতি করে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে যৌনাঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের
উপর। পুরুষের ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও নারীর যৌন উত্তেজনায় সমস্যার পেছনে ডায়াবেটিস
অন্যতম প্রধান কারণ। সমস্যা হলো, শুরুতে ডায়াবেটিসের কোনো লক্ষণই
থাকে না।
কী টেস্ট
করবেন: Fasting
Blood Sugar ও HbA1c। HbA1c গত ৩ মাসের গড় সুগার লেভেল বলে দেয়।
কখন করাবেন: ৩০ এর পর প্রতি বছর একবার। ফ্যামিলি
হিস্ট্রি থাকলে ৬ মাস পরপর।
৪. লিপিড
প্রোফাইল: কোলেস্টেরল চেক
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল LDL ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে গেলে রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়। হার্টের মতো
যৌনাঙ্গেও রক্ত চলাচল কমে যায়। ফলে উত্তেজিত হওয়া বা ধরে রাখা কঠিন হয়। এটাকে
বলে "অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস"।
কী টেস্ট
করবেন: Total
Cholesterol, LDL, HDL, Triglycerides।
কখন করাবেন: ৩০ এর পর প্রতি ১-২ বছর পরপর। ওজন
বেশি হলে প্রতি বছর।
৫. ভিটামিন
ডি টেস্ট: ঘাটতি সবারই আছে
আমরা রোদে কম বের হই, তাই বাংলাদেশের ৮০% মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আছে। অথচ এই
ভিটামিন টেস্টোস্টেরন তৈরি, মুড ভালো রাখা, ইমিউনিটি — সবকিছুতেই লাগে। ঘাটতি থাকলে যৌন ইচ্ছা, পারফরম্যান্স
ও স্পার্ম কোয়ালিটি সবই কমে যায়।
কী টেস্ট
করবেন: 25-Hydroxy
Vitamin D।
কখন করাবেন: ৩০ এর পর একবার করিয়ে নিন। ঘাটতি
থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিয়ে ৩ মাস পর আবার চেক করুন।
৬. এসটিডি
স্ক্রিনিং: বিয়ের আগে বা পরে একবার
এসটিডি মানে সেক্সুয়ালি
ট্রান্সমিটেড ডিজ। অনেকে ভাবে "আমার তো একটাই পার্টনার, আমার কেন হবে?" কিন্তু অনেক এসটিডি বছরের পর
বছর শরীরে লক্ষণ ছাড়াই থাকে। যেমন ক্ল্যামাইডিয়া, এইচপিভি।
এগুলো পরবর্তীতে বন্ধ্যাত্ব বা জরায়ু মুখ ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
কী টেস্ট
করবেন: HIV, HBsAg,
Anti-HCV, VDRL, Urine R/E with C/S। নারীরা সাথে
HPV DNA টেস্ট করাতে পারেন।
কখন করাবেন: বিয়ের আগে দুজনেরই করা উচিত। না
করলে ৩০ এর পর একবার স্ক্রিনিং করে নিশ্চিত হয়ে যান। এটা লজ্জার না, দায়িত্বের বিষয়।
৭.
প্রোস্টেট হেলথ চেক: ৪০ এর আগে পুরুষদের প্রস্তুতি
প্রোস্টেট গ্রন্থি পুরুষের
প্রজননতন্ত্রের অংশ। ৩০ এর পর থেকে এর সাইজ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বড় হয়ে গেলে
প্রস্রাবে সমস্যা, যৌন মিলনে ব্যথা হতে পারে। ক্যান্সারের
ঝুঁকিও এই বয়সের পর থেকে বাড়ে।
কী টেস্ট
করবেন: ৩০-৪০ বছরে PSA টেস্ট করিয়ে বেসলাইন রেখে দিন। ৪০ এর পর প্রতি বছর করা ভালো।
কখন করাবেন: ফ্যামিলিতে প্রোস্টেট ক্যান্সারের
হিস্ট্রি থাকলে ৩৫ থেকেই শুরু করুন।
৮. নারীদের
জন্য হরমোন ও প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট
৩০ এর পর মেয়েদের শরীরে
ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ওঠানামা শুরু হয়। পিরিয়ড অনিয়ম, মুড সুইং, যোনিপথ শুষ্কতা দেখা দেয়। এর সাথে জরায়ু
মুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিংও জরুরি।
কী টেস্ট
করবেন: Serum
Estradiol, Progesterone, AMH। আর প্রতি ৩
বছর পরপর প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট।
কখন করাবেন: ৩০ এর পর গাইনি ডাক্তারের সাথে
পরামর্শ করে হরমোন চেক করুন। ২১ বছর বয়স থেকে বা সহবাস শুরু করার ৩ বছর পর থেকে
প্যাপ স্মিয়ার শুরু করা নিয়ম।
শেষ কথা:
লজ্জা না, সচেতনতা জরুরি: এই টেস্টগুলোর রেজাল্ট খারাপ আসা মানেই আপনি অসুস্থ — তা না। বেশিরভাগ
ক্ষেত্রে লাইফস্টাইল পরিবর্তন, খাবার, ব্যায়াম
আর প্রয়োজনে ছোটখাটো ওষুধেই সব ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু না জানলে, না টেস্ট করালে ছোট সমস্যা বড় হয়ে দাম্পত্য জীবন ও আত্মবিশ্বাস দুটোই
নষ্ট করে।
তাই ৩০ পার হলে বছরে একবার
একটা "ফুল বডি চেকআপ প্যাকেজ" নিন যেখানে উপরের টেস্টগুলো থাকে। রিপোর্ট
নিয়ে একজন ইউরোলজিস্ট, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বা গাইনি বিশেষজ্ঞের
সাথে কথা বলুন। গুগল করে নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না।
মনে রাখবেন, সুস্থ যৌন জীবন মানে সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন। নিজের যত্ন নেওয়া মানে
সঙ্গীরও যত্ন নেওয়া।
বিশেষ
দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার জন্য। আপনার বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী কোন টেস্ট কখন লাগবে সেটা
একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত
নেবেন না।
৩০ বছর পর যৌন স্বাস্থ্যের টেস্ট নিয়ে লেখাটি গুগলে র্যাঙ্ক করাতে যেসব সার্চ কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন: ৩০ বছর পর হেলথ চেকআপ, বিয়ের পর যে টেস্টগুলো করা উচিত, পুরুষের টেস্টোস্টেরন টেস্ট কখন করাব, যৌন দুর্বলতা কোন টেস্ট করব, টেস্টোস্টেরন কমে গেলে লক্ষণ, থাইরয়েড ও যৌন জীবন, ডায়াবেটিস হলে কি সেক্সে সমস্যা হয়, লিবিডো কমে গেলে কোন ডাক্তার দেখাব, ভিটামিন ডি ঘাটতি যৌন সমস্যা, এসটিডি টেস্ট কিভাবে করে, বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট লিস্ট, প্রোস্টেট টেস্ট কত বছর বয়সে, PSA টেস্ট কেন করে, মেয়েদের হরমোন টেস্ট নাম, প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট কি, ৩০ এর পর মেয়েদের যে টেস্ট জরুরি, HbA1c টেস্ট কেন লাগে, কোলেস্টেরল বেশি হলে যৌন সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা পুরুষ, স্পার্ম টেস্ট খরচ বাংলাদেশ, হরমোন টেস্ট কোথায় করায়, যৌন স্বাস্থ্য চেকআপ প্যাকেজ, বয়স ৩০ পার হলে মেডিকেল চেকআপ, দাম্পত্য জীবনের জন্য টেস্ট, সেক্স হরমোন টেস্ট নাম কি, ইউরোলজিস্ট কখন দেখাব, গাইনি চেকআপ রুটিন, সুস্থ যৌন জীবনের জন্য করণীয়।
.png)
